জাতীয়

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর আইনি বাধা নেই

এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। এসব পদে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি নিয়োগসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। এর ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হাইকোর্টে রিট করা ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব পদ সংরক্ষণের বিষয়টি আপিল বিভাগের মূল শুনানিতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে।

যেভাবে জটিলতা তৈরি হয়েছিল

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চলতি বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার গত ২৫ মার্চ এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতার শর্তে সংশোধন আনে।

নতুন সংশোধনীতে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল।

নতুন অভিজ্ঞতার শর্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে ১২ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আরও শিক্ষক যুক্ত হলে রিটকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ জন।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সরকারের ২৫ মার্চের সংশোধনী বাতিল করে দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

এর পর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। ফলে প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে।

১৩ হাজার ৫৫৯ শূন্যপদ

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এসব পদে মোট শূন্যপদ ছিল ১৩ হাজার ৫৫৯টি। বর্তমানে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের কাছাকাছি।

চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে ৪৬টি সংরক্ষিত পদ বাদ দিয়ে বাকি শূন্যপদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলোও সম্পন্ন করা যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button